
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকার শ্যামলীতে একটি প্রাইভেট কোম্পানির ড্রাইভার আসাদুজ্জামান আসাদ স্ত্রী রোমানা আক্তার ও দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করতেন। পারিবারিকভাবে ২০১০ সালের ১৫ অক্টোবর মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার নাওরা গ্রামের মোজাফফর হাওলাদারের মেয়ে রোমানা আক্তারের সঙ্গে আসাদুজ্জামানের বিয়ে হয়। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর সংসার করার পর স্ত্রী রোমানা দুই সন্তানকে নিয়ে আবু জাহেদ নামে একই কোম্পানির এক অ্যাকাউন্টস কর্মকর্তার সঙ্গে চলে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বামী।
আসাদুজ্জামান একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে ড্রাইভার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একই কোম্পানির অ্যাকাউন্টস কর্মকর্তা আবু জাহেদ, পিতা—গোলাম কিবরিয়া ভূঁইয়া, সাং—দৌলতপুর, থানা—চাটখিল, জেলা—নোয়াখালী। গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে আসাদুজ্জামান ও রোমানার সঙ্গে আবু জাহেদের পরিচয় হয়।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে রোমানা আক্তারকে দামি উপহার দেওয়ার মাধ্যমে আবু জাহেদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তা পরকীয়ায় রূপ নেয়।
বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জানাজানি হলে ২০২৩ সালের ১৪ জুন পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই সময় আবু জাহেদ ও রোমানা আক্তার লিখিত মুচলেকা দিয়ে ভবিষ্যতে একে অপরের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখবেন না বলে অঙ্গীকার করেন বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই মীমাংসার পরও তাদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। এর প্রায় আড়াই বছর পর, ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর রোমানা আক্তার তার দুই সন্তানকে নিয়ে আসাদুজ্জামানের ভাড়া বাসা থেকে চলে যান।
আসাদুজ্জামানের অভিযোগ, যাওয়ার সময় রোমানা তার গ্রামের বাড়ির জমি বিক্রি করে রাখা প্রায় ৩০ লাখ টাকা এবং তিন ভরি স্বর্ণালংকার সঙ্গে নিয়ে যান। পরে তিনি আবু জাহেদের সঙ্গে চলে যান বলে দাবি করেন আসাদুজ্জামান।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে রোমানা আক্তার ও আবু জাহেদ ঢাকার কদমতলী থানাধীন রায়েরবাগের খানকা শরীফ রোডে আবু জাহেদের ক্রয় করা একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন।
এদিকে আবু জাহেদের প্রথম স্ত্রীও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, গত প্রায় ৮-৯ মাস ধরে জাহেদ তার ও সন্তানের কোনো খোঁজখবর নেন না এবং সংসারের কোনো খরচও দেন না। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাকে ডিভোর্স দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে রোমানা আক্তার ও আবু জাহেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা পরস্পরকে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেন। তবে কথিত বিয়ের প্রমাণ হিসেবে কাবিননামা বা অন্য কোনো নথি তাৎক্ষণিকভাবে দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে।
অন্যদিকে রোমানার স্বামী আসাদুজ্জামান বলেন, “আমাকে ডিভোর্স না দিয়েই ৩০ লাখ টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে তারা কীভাবে একসঙ্গে বসবাস করছে—এটাই আমার প্রশ্ন।”
অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, রোমানা আক্তার স্বামীর কাছ থেকে কীভাবে ৩০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন, ওই অর্থের প্রকৃত মালিকানা কী, ফ্ল্যাটটি কীভাবে কেনা হয়েছে এবং রোমানা ও আবু জাহেদের কথিত বিয়ের সত্যতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
সচেতন মহলও বলছে, এ ঘটনায় কোনো পক্ষকে চূড়ান্তভাবে দায়ী করার আগে ৩০ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন, তিন ভরি স্বর্ণালংকার, ফ্ল্যাট ক্রয়ের অর্থের উৎস, কথিত বিয়ের কাবিননামা এবং ২০২৩ সালের মুচলেকাসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।